নাদিম হোসেন খানঁ, চরফ্যাশন-ভোলা
ভোলার চরফ্যাশনে চাঁদাবাজির মামলায় নজরুল নগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের জের ধরে আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, হুমকি দেওয়া এবং লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেলের এসব ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান সজিব শাহরিয়ার নজরুল নগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার পক্ষে লড়ছেন উপজেলা চত্বরে চরফ্যাশন আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) মো. সিদ্দিক মাতব্বর।
দুলারহাট থানার সজিব শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে ওই থানার পরিদর্শক ইয়াছিন আলম চৌধুরী জানান, সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর জোর করে এক ব্যক্তির খেতের ধান কাটার ঘটনায় সজিব শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি মামলা হয়। ওই মামলার ২ নম্বর আসামি সজিব। সোমবার দুপুরে উপজেলা সড়ক থেকে থানা চরফ্যাশন থানা–পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চরফ্যাশন আদালতের এপিপি হযরত আলী (হিরণ) বলেন, সদ্য যোগ দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে উপজেলা মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে বের হওয়ার সময় সজিব শাহরিয়ার এজিপি সিদ্দিক মাতব্বরকে উদ্দেশ করে বলে, ‘তুই আমাকে মামলায় দিয়েছিস, আমি তোকে দেখে নেব।’ এপিপি ও এজিপি তাৎক্ষণিক বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান এবং পুলিশ সজিবকে গ্রেপ্তার করে।
এপিপি হযরত আলী অভিযোগ করেন, তাঁকে সজিবের গ্রেপ্তার ঠেকাতে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা ফোন দিয়ে তদবির করতে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করায় বিএনপির নেতা–কর্মীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালান, দরজা ভেঙে ফেলেন, তাঁর স্ত্রীকে হুমকি দেন এবং পরে তাঁর চেম্বারেও আক্রমণ করেন। বাসায় ফেরার পথে ছাত্রদল–যুবদলের কর্মীরা তাঁকে লাঞ্ছিত করেন, মারধর করে আহত করেন এবং তাঁর টাকা, ঘড়ি ও মোবাইল ছিনতাই করে নেন।
বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন বলে জানান হযরত আলী। তিনি বলেন, ‘এটি (ধান কাটার ঘটনায় মামলা) নিয়মিত মামলা। পুলিশ কাউকে ছাড়বে কি না, তা আমার হাতে নেই। তাই অপারগতার কথা জানিয়েছি। আর এ কারণেই আমার ওপর এ হামলা।
হামলার বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জাহিদুল ইসলাম (রাসেল) বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে সজিব শাহরিয়ার ইউপি সদস্য হয়েছে। ৫ আগস্টের পরে প্যানেল চেয়ারম্যান হয়েছে। তাঁর পক্ষ নিয়ে যুবদলের কেউ এপিপির ওপর হামলা করবে—এ কথা বলাই যায় না। যারা হামলা করেছে, তারা সন্ত্রাসী।
উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মো. কামাল গোলদারও বলেন, যারা এপিপির ওপর হামলা করেছে, তারা সন্ত্রাসী। তারা বিএনপির কেউ হতে পারে না।
















