জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রতারণা, অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ চায় রিহ্যাব

স্টাফ রিপোর্টার :

জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট আয়তনের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবাসন ব্যবসায় প্রতারণা করা হচ্ছে। তাই এ ধরনের জালিয়াতি-নির্ভর ব্যবসায়িক মডেল বন্ধ বা তা কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের প্রতিশ্রুতিনির্ভর ব্যবসার কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া জমির শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পসংক্রান্ত ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ফলে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ করার বিকল্প নেই। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, রিহ্যাব এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মোঃ বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ. এফ. এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মোঃ হারুন অর রশিদ, পরিচালক মোঃ গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, প্রকৌশলী মোঃ মোস্তফা কামাল, এ.জেড.এম. কামরুদ্দিন, প্রফেসর ফারুক আহমদ, মোঃ জহির আহমেদ, মোঃ খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, শেখ কামাল, এম. ফখরুল ইসলাম ও এ. এস. এম. আব্দুল গাফফার মিয়াজী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, রিহ্যাবের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কমিটির সদস্য সঞ্জয় চক্রবর্তী এবং রিহ্যাব সদস্য শফিকুল ইসলাম বাদল।

শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসায় জমির নির্দিষ্ট অংশ বা শেয়ার বিক্রি করে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের সক্ষমতা, অর্থের ব্যবহার, ফ্ল্যাটের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং হস্তান্তরের আইনি নিশ্চয়তা স্পষ্ট থাকে না। ফলে অর্থ বিনিয়োগ করেও ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট পাওয়া, বৈধ মালিকানা বুঝে পাওয়া কিংবা বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।

এই ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসার আর্থিক ঝুঁকি সম্পর্কে আলী আফজাল বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন বছরে শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পসংক্রান্ত মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য তুলে ধরে আলী আফজাল বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমির শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পে প্রতারণার অভিযোগে ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন থাকার তথ্য উঠে এসেছে। এসব মামলায় প্রায় ৪০ হাজার ক্রেতা এবং ১২ হাজার কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। শেয়ারভিত্তিক পদ্ধতিতে নির্মিত ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে অসংগতি এবং নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, শেয়ারে নির্মিত ১০০টি ভবন পরিদর্শন করলে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভবনে কোনো না কোনো ধরনের ব্যত্যয়ের অভিযোগ পাওয়া যাবে। এ কারণে শেয়ারভিত্তিক পদ্ধতিতে নির্মিত প্রতিটি ভবন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি। লিখিত বক্তব্যে আলী আফজাল আরও বলেন, জমির শেয়ার কিনলেই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের আইনগত মালিকানা নিশ্চিত হয় না। একই জমি বা ভবনের বিপরীতে একাধিক ব্যক্তির কাছে শেয়ার বিক্রি, যথাযথ অনুমোদন ও নকশা ছাড়াই অর্থ সংগ্রহ, নির্মাণ ব্যয়ের অস্বচ্ছ হিসাব এবং দক্ষ প্রকৌশলী ও পেশাদার তদারকির অভাবে ভবনের নিরাপত্তা ও নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিনির্ভর অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা, জমির মালিকানা ও প্রকল্পের অনুমোদন নিশ্চিত না করে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করা, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে স্বাধীন কারিগরি ও আইনগত নিরীক্ষা এবং একই জমি একাধিকবার বিক্রি, জাল দলিল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করা। এছাড়া প্রকল্পের অর্থ সংগ্রহ ও নির্মাণ ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব, প্রযোজ্য কর-ভ্যাট পরিশোধ এবং যোগ্য স্থপতি ও প্রকৌশলীর মাধ্যমে নির্মাণকাজের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

Facebook Comments Box