স্টাফ রিপোর্টার :
প্রধানমন্ত্রী কোন মন্ত্রীর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট না হলে প্রয়োজনে দপ্তর পুনর্বণ্টন কিংবা উপদেষ্টা পরিষদে নতুন মুখ যুক্ত করতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
সরকারের ১৮০ দিন সামনে রেখে মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে বলে এক ধরনের আলোচনা হচ্ছে। এটার বাস্তবতা কতটুকু? এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমিও জানি না, আমিও মিডিয়াতে দেখছি। এর বেশি কিছু না। তবে একটা জিনিস গ্রসলি আমরা মনে করতে পারি, এটা সেই পুরোনো কথা, শুধু ১৮০ দিনের কথা বলছি না। বিষয়টা হলো যে, কোনো ফ্যাসিস্ট বা মাফিয়া রেজিম দেখাতে চায়, তিনি যা করেছেন, সঠিক করেছেন। তিনি ভুলের সংশোধনী নিতে পারেন না, কোনো ভুল করতে পারেন না, তার সব ঠিক আছে। এ রকম চিন্তার ফলে তারা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন না। আমরা এমনটা করতে চাই না।
উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটা মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন, একটা উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেছেন। ওনার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বুঝি, প্রধানমন্ত্রীর যদি কখনো মনে হয় কেউ ভালো পারফর্ম করতে পারছেন না; তার জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন অথবা নতুন কাউকে দেওয়ার প্রয়োজন হলে সেটা তিনি করবেন।
তিনি বলেন, দিন শেষে আমাদের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ সাধন করা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কোনো চয়েজ বা সিদ্ধান্ত আরও বেটার করার সুযোগ যদি থাকে, তিনি সেটা করবেন। এটা এখন ১৮০ দিনের (সরকারের ১৮০ দিন ) পরপর হবে, নাকি তার চেয়ে একটু সময় লাগবে, সেটা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্যটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সরকারের বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কয়েক দিন আগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী? জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজ নিয়েছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হচ্ছে। প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি জঙ্গি হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা নয়; বরং অসমাপ্ত ভাস্কর্যটি অন্যত্র স্থানান্তর করে নতুনভাবে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছি, তাতে জানা গেছে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজই এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। এটি ২০১৯-২০ সালের দিকে শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষ হয়নি। তথ্য উপদেষ্টা জানান, প্রশাসনের কাছে দুটি অভিযোগ এসেছে। প্রথমত, আবক্ষ ভাস্কর্যের মুখাবয়ব বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের সঙ্গে যথাযথভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। দ্বিতীয়ত, ভাস্কর্যটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থলে উঁচু বেদির ওপর নির্মাণ করায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমিও বিস্মিত হয়েছিলাম। পরে বিষয়টি বিস্তারিত জানার পর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমান স্থান থেকে এটি সরিয়ে এমন একটি উপযুক্ত স্থানে নতুনভাবে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে, যেখানে তাঁর অবয়ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিও যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন, ভাস্কর্যটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সরকারের। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ঘটনাকে জঙ্গি হামলা বা নাশকতা হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অনুমানভিত্তিক মন্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
















