স্টাফ রিপোর্টার :
হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে ২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে সরকার। হজ প্যাকেজ-১ ও হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) নামে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০২৬ সালের চেয়ে বিমান ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমেছে। হজ প্যাকেজ-১ এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লক্ষ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লক্ষ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা। মঙ্গলবার ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ঘোষণা করেন। এ সময় গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব(হজ) ড. আয়াতুল ইসলাম, যুগ্মসচিব ড. মঞ্জুরুল হক, হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদারসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৭ সালের হজে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবু ও সার্ভিস প্যাকেজকে একটি সমন্বিত প্যাকেজের মধ্যে আনার ঘোষণা দিয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী এসময় বলেন, ২০২৬ সালে মিনা-আরাফায় এ, বি, সি ও ডি মোট চারটি সার্ভিস প্যাকেজ ছিলো। কিন্তু ২০২৭ সালের হজে সার্ভিস প্যাকেজ হবে তিনটি। এছাড়া, ২০২৭ সালের হজে হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সকল উদ্যোগের কারণে হজযাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার আমলে ২০২৩ সালে বিমান ভাড়া ছিলো প্রায় দুই লক্ষ টাকা। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বিমান ভাড়া এক লক্ষ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা করা হয়। ২০২৭ সালের হজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমান ভাড়া এক লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা হজের বিমান ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক।
হজের খরচ গত হজের চেয়ে কমলো না বাড়লো- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজে খাবার খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিলো না। কিন্তু ২০২৭ সালের হজে ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা, সার্ভিস প্যাকেজ ‘ডি’ বাতিল করা ও সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় হজ প্যাকেজে বাড়তি খরচ যুক্ত হয়েছে ৬৬ হাজার ৫৭৪ টাকা। ২০২৬ সালের সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের সাথে এই টাকা যোগ করে তুলনা করলে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ-২ এ ২৮ হাজার ৬৩ টাকা কমেছে বলে জানান তিনি। প্রবাসী হজযাত্রীদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের হজে প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীরা যে দেশে অবস্থান করছেন সেদেশেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ করে ভিসার আবেদন করতে পারবে। এর আগের বছরগুলোতে তাদেরকে দেশে এসে এ কাজগুলো করতে হতো। এছাড়া, প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীগণ যাতে অবস্থানরত দেশ হতে সরাসরি সৌদিতে যেতে পারেন সে বিষয়েও চেষ্টা করে যাচ্ছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হজ প্যাকেজ-১ এর হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর হতে ১০০০ থেকে ১৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এরিয়ায় আবাসন সুবিধা দেয়া হবে। মিনায় জোন-২ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা-আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫-৪০ দিন। উল্লেখ্য, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধসাপেক্ষে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেয়া যাবে। অন্যদিকে, হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) হজ প্যাকেজ-১ এর চেয়ে কিছুটা সুলভ প্যাকেজ। এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরীফের বহিঃচত্বর হতে ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী হতে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবংমিনা-আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে। উল্লেখ্য, বেসরকারি তথা হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নামে একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
















