ঢাকা মহানগরীর টেকসই নগরায়ন নিশ্চিত করতে ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়বার মূল পরিকল্পনা দলিল হিসেবে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ ২০১৬-৩৫) অনুমোদন করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। ২০১০ সালে প্রণীত পূর্ববর্তী ড্যাপের নির্ধারিত মেয়াদ ২০১৫ সালে পার হবার কারণে ঢাকা শহরের পরিবর্তিত নগর বাস্তবতায় নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
কিছুটা বিলম্বে হলেও ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জন্য অনুমোদিত এই বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা সঠিক ভাবে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা হলে, ঢাকার নগরায়ন এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সঠিক গতিপথে চালিত হতে পারে বলে আইপিডি মনে করে। বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়। যে কোন পরিকল্পনা দলিলে অনুসৃত পরিকল্পনা কৌশল, পন্থা ও দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিকল্পনার সফলতা কিংবা ব্যর্থতা নির্ভর করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তরিক সদিচ্ছা, যথাযথ প্রয়োগ, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন ও জনস্বার্থ-জনকল্যাণ রক্ষায় পরিকল্পনা ও নীতি-নির্দেশনার নির্মোহ ও যথাযথ বাস্তবায়ন এর উপর।
অতীতে ঢাকা মহানগরীর জন্য প্রণীত কাঠামোগত পরিকল্পনা, মহাপরিকল্পনা কিংবা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা দলিলগুলো সঠিক ও পূর্ণ বাস্তবায়নের অভাবেই ঢাকা ক্রমান্বয়ে বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করেই অনুমোদনহীন শিল্প-কারখানা কিংবা ভবন নির্মাণ হয়েছে কিংবা ভূমি ব্যবহার নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটিয়ে জলাধার-বন্যা প্রবাহ অঞ্চল ভরাট করা হয়েছে। ফলে ঢাকার বাসযোগ্যতা কমেছে মারাত্মকভাবে এবং ঢাকা ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এবারের ড্যাপে আধুনিক নগরপরিকল্পনার বেশ কিছু কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে উল্লেখ করে এত আরো বলা হয়, এরমধ্যে ব্লক ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিটিভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সেবার বিকেন্দ্রীকরণ, মেট্রো স্টেশনভিত্তিক ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি), জনঘনত্ব জোনিং, ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইট (টিডিআর), ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্পন্ন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদনকেন্দ্র সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়ের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শহরের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করবে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আঞ্চলিক পার্ক, জলকেন্দ্রিক পার্ক, ইকোপার্ক তৈরি, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো তৈরি ও বাইসাইকেল লেনকে উৎসাহিত করা এবং অযান্ত্রিক পরিবহনকে সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করা—এসব বিষয় ড্যাপে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অপরিকল্পিত এলাকাকে পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক কৌশল হিসেবে ভূমি পুনর্বিন্যাস ও ভূমি পুনঃ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৬ সালে প্রণীত হবার সময় এলাকাভিত্তিক ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) প্রণয়ন করবার কথা বলা হয়েছিল, যা এবারের ড্যাপে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। আইপিডি মনে করে, এলাকাভিত্তিক ‘এফএআর’ এর সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে জনঘনত্ব ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ভবন ও কমিউনিটিতে আলো-বাতাসের প্রবেশগম্যতার পাশাপাশি নগরের উষ্ণায়ন রোধে সহায়ক হবে।
আবার নগর পরিকল্পনা একটি পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া হওয়াতে সামনের দিনগুলোতে ড্যাপ বাস্তবায়নে পর্যায়ে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা’কে নির্দিষ্ট সময় পরপর পূনঃমূল্যায়ন করে এই পরিকল্পনাকে আরো সমৃদ্ধ করা হবে বলে আইপিডি আশা করে। একইসাথে আইপিডি মনে করে, বেসরকারি শিল্প উদ্যোক্তা, ভবন নির্মাতা ও আবাসন ব্যবসায়ী, ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট মহলসহ জনসাধারণ ও নাগরিকদের এই পরিকল্পনাকে অনুসরণ করে সকল ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম করবার আন্তরিক আগ্রহ থাকলে সরকারের পক্ষে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজতর হবে।















