আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ-গুলি, আহত ৫

মাগুরায় জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিনিধি সভায় অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি কর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অবৈধ অস্ত্র থেকে গুলি নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার দুপুরে মাগুরা জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টার দিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুর রহমান হাসুর নেতৃত্বে একটি মিছিল পুলিশ লাইন এলাকা থেকে বের হয়। ইসলামপুর পাড়া দলীয় কার‌্যালয়ে কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত দলীয় প্রতিনিধি সভায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে চৌরঙ্গী মোড়ে সমবায় ব্যাংক এলাকায় অবস্থানরত ছাত্রলীগ কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক দফা ধাওয়া পালটা ধাওয়া এবং উপর্যুপরি ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

পরে এতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভিন্ন পর‌্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পাশাপাশি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্য থেকে কালো মাস্ক পরিচিত এক যুবককে একাধিকবার অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে বিএনপি কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম জাহিদ বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রলীগ কর্মীরা বিনা উসকানিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা পুলিশের সামনেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও বর্ষণ করে। এতে যুবদল কর্মী বিল্লালসহ ৫ জন আহত হন।

তবে তাদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কোনো কর্মী নয়, বরং নাজমুল নামে শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকার এক বিএনপি কর্মী সুপার মার্কেটের সামনে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে। ওই এলাকার বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উভয়পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার প্রসঙ্গে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কলিমুল্লাহ বলেন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কোনো তথ্য আমরা পাইনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Facebook Comments Box