সব ধর্মের মানুষ নিজস্ব আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়

ধর্ম যার যার বাংলাদেশটা হোক সবার এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সব ধর্মের বসবাস নিশ্চিত করতে চাই। সব ধর্মের মানুষ তাদের নিজস্ব আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়। এখানে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলে কোন বিষয় নেই। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভুকশিমূল বাজারে দাওয়াতি সভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আব্দুল মুন্তাজিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন, কুলাউড়া উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা: অরুনাভ দে, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক রজত কান্তি ভট্রাচার্য্য, কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্রাচার্য্য সজল, পুজা উদযাপন কমিটির সেক্রেটারি অজয় দাস, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইয়ামির আলী, জেলা পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি তাজুল ইসলাস ও রাজানুর রহিম ইফতেখার প্রমুখ।

সমাজে নারী-পুরুষ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এমন একটা দেশ গড়তে চাই; যে দেশে মানুষ মর্যাদা পাবে তার গুনাগুণের ভিত্তিতে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে মানুষটির কোয়ালিটি দেখে সমাজ তাকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে বাধ্য হবে।

ডা: শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা প্রতিহিংসার কিংবা প্রতিশোধের রাজনীতি করি না। কারণ প্রতিহিংসার কিংবা প্রতিশোধ কখনও শান্তি বয়ে আনতে পারে না। কোন মানুষ যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে প্রচলিত আইনের দ্বারস্থ হবেন। প্রচলিত আইনেই তার বিচার হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ গদি হারালে দেশে ৫-৬ লাখ আওয়ামী লীগ কর্মির মৃত্যু হবে। কিন্তু কোথায় কেউতো মারা গেলো না।

সব জায়গায় তো আপনার মানুষ নেই, দেশ চালাবেন কীভাবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে জামাতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষই আমার। কারণ এ ১৮ কোটি মানুষকে যদি আমি যথাযথভাবে সম্মান ও ভালোবাসা দিতে পারি, তাহলে তাদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে নিশ্চিত। তবে আল্লাহ তালার সহযোগিতা ছাড়া কেউ কোনোকিছু করতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, ‘এ দেশের শিক্ষার ওপর মানুষের কোনো আস্তা ও বিশ্বাস নেই; সেইসঙ্গে এ শিক্ষা সার্টিফিকেটের কোনো মূল্য নেই। আবার কোনো কাজের জন্য তাকে পরীক্ষাও দিতে হয়। দুনিয়ার কোথাও এ নিয়ম নেই।

বিশ্বের অন্যদেশের উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি বলেন, কাজের প্রতিষ্ঠান শিক্ষা জীবন চলাকালে আগেভাগে চাকরি করার নিয়োগ লেটার পাঠিয়ে দিয়ে বলে আমার প্রতিষ্ঠান চাকরি দেবে যদি আপনি কাজ করতে চান। বাংলাদেশে এ রকম কোনো নিয়ম শোনা যায়নি। তার কারণ এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার ওপর কারো বিশ্বাস নেই। এমন কি সার্টিফিকেটের সঙ্গে শিক্ষার কোনো মিল নেই।

তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বে শুধু তার সিভিটা জমা নেবে। সিভি ঠিক থাকলে তার আর চাকরি আটকাবে না। কাজেই জামায়াতে ইসলামি চায় মানুষ হিসাবে মানুষকে সম্মান দেয়ার শিক্ষা ভালোবাসার শিক্ষা এবং শিক্ষা সমাপ্তের পর তাদের হাতে কাজ তুলে দেয়া। এই কাজটি আমরা করে যেতে চাই। শফিকুর রহমান বলেন, কুলাউড়া থানায় ছয় থেকে সাত লাখ মানুষের জন্য যদি ১০০ জন পুলিশ থাকে। তাহলে এতোসব মানুষের জন্য একশো পুলিশ দিয়ে পাহারা দেয়া কোনোভাবে সম্ভব নয়। তবে এরমধ্যে যদি একজন জাগ্রত পুলিশ থাকেন তাহলে অন্যদের আর কষ্ট করতে হবে না। এ দিকে দুপুরে কুলাউড়া পৌরসভা মিলনায়তনে অমুসলিমদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও জুড়ী উপজেলাসহ আরও বেশ কয়েকটি স্থানে দাওয়াতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Facebook Comments Box