চরফ্যাশনে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার বিতর্ক

ভোলা প্রতিনিধি:

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ৭ নম্বর নুরাবাদ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চূড়ান্ত ও অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম না থাকা এক ব্যক্তিকে সুপারভাইজারের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বঞ্চিত প্রার্থীরা। এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরাবাদ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কাজ পরিচালনার জন্য প্রাথমিক বাছাইয়ে সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে সুপারভাইজার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তবে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন দুলারহাট থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও আপত্তির পর তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধান ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুরাবাদ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কাজ পরিচালনার জন্য গঠিত প্রাথমিক বিচারে সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি সুপারভাইজার হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে সালাউদ্দিন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন দুলারহাট থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। গণআন্দোলন ও স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে প্রশাসন বাধ্য হয়ে সালাউদ্দিনকে উক্ত পদ থেকে বাদ দেয়। সরকারি নিয়ম ও প্রচলিত নিয়োগ নীতি অনুযায়ী, চূড়ান্ত তালিকার কেউ বাদ পড়লে অপেক্ষমাণ তালিকার শীর্ষে থাকা ব্যক্তির সেই পদে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা। নুরাবাদ ইউনিয়নে এই অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম ছিল শামসুর রহমানের। কিন্তু তাঁকে দায়িত্ব না দিয়ে একই নামের অন্য এক ছাত্রনেতাকে সুপারভাইজার হিসেবে যুক্ত করাহয়েছে। তাঁদের দাবি, নতুন করে দায়িত্ব পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম নির্বাচিত, অপেক্ষমাণ কিংবা সংরক্ষিত কোনো তালিকাতেই ছিল না।

তালিকার বাইরে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন, কে তাঁকে মনোনীত করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো লিখিত অনুমোদন রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির শুমারি পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়া জরুরি। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকলে তা প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্তকরণসহ পুরো কার্যক্রমের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাঁরা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার এবং বিধি অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরাসরি তদারকি করছেন। এ প্রক্রিয়ায় তাঁর কোনো ভূমিকা নেই বলেও তিনি জানান।
তবে নুরাবাদ ইউনিয়নে সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ও অপেক্ষমাণ তালিকা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তালিকার বাইরে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার লিখিত অনুমোদন রয়েছে কি না এবং অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য কী তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box