জাল দলিল ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাল দলিল তৈরি, ভুয়া মালিকানা দাবি এবং প্রতারণার মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগ তুলে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রাজধানীর তুরাগ থানাধীন ধউর ও প্রাম ভাটুলিয়া মৌজায় অবস্থিত মিতালী আবাসিক প্রকল্পের প্লট মালিকরা।

এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি মো. তৈয়ব আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওহেদ মাসুক, আলতাফ হোসেনসহ অন্যান্য প্লট মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্লট মালিকরা অভিযোগ করেন, একটি অসাধু চক্র জাল কাগজপত্র তৈরি, ভুয়া মালিকানা দাবি এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জমি দখলের চেষ্টা করছে। এমনকি প্রকৃত মালিকদের নামজারি বাতিলের অপচেষ্টা চালিয়ে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগও তোলেন তারা।

তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক জমির মালিক আর্থিক ক্ষতি, মানসিক হয়রানি এবং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার মুখে পড়ছেন। আদালতে মামলা করেও কেউ কেউ জমি দখলমুক্ত রাখতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের ভাষ্য, রাতের আঁধারে জমি দখল এবং জাল দলিল তৈরি করে একই জমি অন্যত্র বিক্রির ঘটনাও ঘটছে। এতে নতুন ক্রেতারাও প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় রাসেল সৈয়াল, মোস্তাক হোসেন ও কবিরের নেতৃত্বাধীন কয়েকটি পক্ষের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্লট মালিকরা।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জমির প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে ভূমি অফিসের নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা চক্র যেন জাল দলিলের মাধ্যমে অন্যের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ সময় প্লট মালিকদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জাল দলিল ও ভূমি জালিয়াতির অভিযোগ দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রতারণা ও অবৈধভাবে জমি দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রকৃত মালিকদের মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত অধিকার সুরক্ষা এবং ভূমির নথিপত্র যাচাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

পাশাপাশি জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি কিংবা সেখানে নতুন স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণ করে নতুন করে কাউকে প্রতারণার শিকার হতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ভূমি নিয়ে প্রতারণা, জাল দলিল তৈরি এবং অবৈধ দখলের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং ভূমি ব্যবস্থাপনার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভূমি অফিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্লট মালিকরা বলেন, প্রকৃত মালিকদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভূমি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন এবং ভূমি খাতে স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

Facebook Comments Box