নিজস্ব প্রতিবেদক
মাতুয়াইল দরবার এ মোজাদ্দেদীয়া (মাতুয়াইল দরবার শরীফ) ৩দিনব্যাপী ওরস ও আখেরি মোনাজাত কাল শুক্রবার দিবাগত রাতে শেষ হচ্ছে। প্রতি বছর আলহাজ¦ হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি কুতুব উদ্দিন আহমেদ খান (শাহ্ মাতুয়াইলী) স্বরণে জানুয়ারি মাসের প্রথমদিন থেকে ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে বাৎসরিক ওরস নূরে বরকত অনষ্ঠিত হয়। এতে আখেরী মুনাজাত এর পূর্বে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ভক্ত মুরিদান ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ-এ দরবার শরিফে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে ভক্তদের উদ্দেশ্য বিভিন্ন আলোচক ও মুফতি মাওলানাগণ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। গদিনশীল পীর আলহাজ¦ আবুল কাসেম জিয়া উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ ওরস অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও মাতুয়াইল দরবার শরীফে ওরস উপলক্ষে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে লোকজ মেলা বসে। এরআগে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তবৃন্দ ওরস শরিফে আসতে থাকেন এবং তাদের পদচারণায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে মাতুয়াইল দরবার শরীফ ও আশপাশের এলাকা।
গদিনশীল পীর আলহাজ¦ আবুল কাসেম জিয়া উদ্দিন বলেন, দেশের স্বাধীনতা সর্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ৯২ ভাগ মুসলিম জনতার স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারকে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সামান্য ভুল হলে জাতিকে যুগ যুগ ধরে তার খেসারত দিতে হবে। আমরা ইসলামী হুকুমত চাই। তিনি বলেন, ইসলামের সূচনা সাহাবায়ে কেরাম ও আউলিয়ায়ে কেরামের পরশ ছোয়ায় মানুষ ইসলামের অনুপম আদর্শে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আলহাজ¦ হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি কুতুব উদ্দিন আহমেদ খান (শাহ্ মাতুয়াইলী) স্বরণে তার ভক্ত মুরীদানকে জিকিরের তা’লীম, দরূদ, অজিফা ও আমলসমূহ নিয়মিত আদায়ের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক মসজিদে সাপ্তাহিক তা,লিমী জলসা কায়েম করে জমইয়াতে হিযবুল্লাহর পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান এবং পীর ভাইদের থেকে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ইসলামের পতাকাতলে সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রসঙ্গত, মাতুয়াইল দরবার শরীফ ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত কুতুববাগ দরবার শরীফ হিসেবে এটি পরিচিত এবং রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন (ডিএসসিসি ৬৩ নং ওয়ার্ড) মাতুয়াইলে অবস্থিত। ১৯৮৩ সালে সূফী নূর-এ-বরকত, মোফাচ্ছের-এ-কুরআন,হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী আলহাজ্ব হযরত শাহ চন্দ্রপুরী (রহঃ) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি সুফিবাদের আদর্শ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে প্রতি বছর ওরস, ঈদের জামাত ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয় এবং অনেক মুসল্লী অংশ নেন।
















