স্টাফ রিপোর্টার :
সিন্ডিকেটের কারণে কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের কারণেই বাজার ব্যবস্থা অস্থির হয়ে উঠেছে। এতে সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পড়ছে।মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী পাইকারি বাজার পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। বাজার পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোঃ মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মোঃ মাহফুজুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
এসময় ব্যবসায়ীরা বিরোধী দলীয় নেতার কাছে অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া রাজধানীর মিরপুর শাহআলী কাঁচা বাজারে দোকান দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিচ্ছে বরাদ্দ পাওয়া মালিকরা। যেটা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ, সঙ্গে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। কারা করছে চাঁদাবাজি তা বলতেও ভয় পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় বলেন, প্রতিরোধ করতে হবে সম্মিলিতভাবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এদেশের নাগরিক এদেশে বর্তমানে একটা সরকার প্রতিষ্ঠিত আছে। একটা সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বিরোধী দলে, সরকারে বিএনপি। আগের থেকে বাজার অস্থির। ইদানিং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির। কেন অস্থির? এই যে একটা বিশাল মার্কেট রয়েছে। এখানে দোকানদার বলছেন, নীরব চাঁদাবাজি আছে। কথা বলতে চায়, তাদের চেপে রাখা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এখানে তো আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না। এখানেই আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, উঠাবসা বসবাস করা লোকেরাই চাঁদাবাজি করে। তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি। তিনি সংসদের শেষ অধিবেশনের শেষ দিবসে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, আমি বলেছিলাম, সংসদ সদস্যরা যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে বাংলাদেশের চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস করবে না। আমরা চাই, চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।
তিনি বলেন, ভোক্তা বা সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের বাজারে আসতে হয় পণ্য কেনার জন্য। আপনি না হয় একটা পণ্যের ব্যবসা করেন, কিন্তু আরও ১০০টা পণ্য যে আমাদের কেনা লাগে। সেখানে কেনাকাটা করতে গিয়ে আমাকে বিড়ম্বনা স্বীকার হতে হবে কেন?
মানুষের নাভিঃশ্বাস উঠে গেছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ করে যারা স্বল্প আয়ের মানুষ, তাদের অবস্থা এখন বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের নাগরিক দায়িত্ব, জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা আজকে মহড়া দিতে আসিনি, বাজারটাকে বুঝতে এসেছি।
তিনি বলেন, আজকে আড়ত বাজারে এসেছি। খুচরা বাজারেও যাবো। মোকামেও আমরা যাবো, খবর নেবো। জায়গায় জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে এখানে যারা ব্যবসায়ী রয়েছে তারাও কিন্তু ভালো ব্যবসা করতে পারে না। আমরা যারা ভোক্তা আছি, আমরা ন্যায্য মূল্যে আমাদের পণ্যগুলো পাই না। কৃষক তার মূল্যের, তার মানে উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই। কোন দিন ভাঙতে পারবো আল্লাহ ভালো জানে। কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে। এই লড়াই চলবে, আমরা থামবো না। আমাদের আওয়াজ, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের দাবি সংসদের ভেতরে এবং বাইরে সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারবো। একা কেউ পারবে না। একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার। দেশ জনগণের। দেশের মালিকও জনগণ। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের কথা অনুযায়ী এখানে যে জিনিসটার দাম আজকে ১০ টাকা হওয়ার কথা, ব্যবসায়ীদের চাঁদা দেওয়ার কারণে তা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হয়। যেটার ভার, বোঝা গিয়ে পড়ছে জনগণের ঘাড়ে। জামায়াত আমির ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন জায়গায় জায়গায় কি নীরবে চাঁদা দিয়েই যাবেন, সহ্য করবেন, নাকি বন্ধ করতে প্রতিরোধ করা লাগবে? জামায়াত আমির বলেন, ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। সবাই প্রস্তুত হবেন, প্রস্তুত আমরা। সবাই মিলে প্রতিরোধ করবো।
















