তৈরি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি, বেতন-ভাতা এবং কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৩৩ ধারায় ঢাকা তৃতীয় শ্রম আদালতে একটি অভিযোগ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের পোষাকখাতে বিরাজমান অস্থিরতায় ইন্ধনদাতা হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক এমপি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর নাম।
মামলার অভিযোগকারী মো. শওকত আলী প্রতিষ্ঠানটির কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর দাবি, ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কর্মস্থলে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় বেতন-ভাতা পরিশোধ, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং চাকরির ধারাবাহিকতা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি কাজে যোগ দিতে চাইলেও কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তাঁকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি শ্রম আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
আদালতে দায়ের করা মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, চাকরি থেকে অব্যাহতির আদেশ বাতিল ও আইনগত প্রতিকার প্রদান। পূর্বের পদ ও মর্যাদায় চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ।
চাকরিতে পুনর্বহালের আগের সময় পর্যন্ত বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পরিশোধ। মামলার খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা প্রদান এবং আইন অনুযায়ী অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেডের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা লিখিত জবাবে অভিযোগকারীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং কাজে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, শ্রম আইনের বিধান অনুসরণ করেই চাকরিসংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আব্দুস সালাম মুর্শেদীর নাম এসেছে। আব্দুস সালাম মুর্শেদীর এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন।
অন্যদিকে, আব্দুস সালাম মুর্শেদীর গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী চেয়ারম্যান শারমিন সালাম, পরিচালক হিসেবে মেয়ে ব্যারিস্টার শেরিন সালাম ঐশী এবং ছেলে ইশমাম সালাম।
এর আগে এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে কারাবন্দী সাবেক সংসদ সদস্য ও বাফুফের সাবেক সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও তাঁর স্ত্রী সারমিন সালামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। এছাড়া দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে গুলশানে দখল করা অবৈধ বাড়ি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় আছেন সালাম মুর্শেদী ও তার পরিবার।
















