ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে বলে বিশেষজ্ঞমহল আশঙ্কা প্রকাশ করলেও সামষ্টিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করেছি। মঙ্গলবার নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে স্থাপিত “এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং তদারকি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ ফজলে নূর তাপস এসব কথা বলেন।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা আমলে নিয়ে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে চিহ্নিত অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে আমরা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছি উল্লেখ করে মেয়র আরো বলেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে যে সকল জায়গায় আমরা লার্ভার অভয়ারণ্য পেয়ে থাকি সেসব জায়গা চিহ্নিত করে আমরা সকল সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় করেছি। তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য চিহ্নিত করে তাদের ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের মাধ্যমে ব্যাপক মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমরা ইতোমধ্যে সকল হাসপাতাল, থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি এবং এ পর্যন্ত ৪৮৫টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ফলশ্রুতিতে গত বছরের জুলাই মাসে ১ হাজার ৩৩৭ জন রোগী চিহ্নিত হলেও এ বছর অদ্যাবধি ১২০ রোগী পেয়েছি। ফলে, আমাদের সামষ্টিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।
কোথাও এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে দক্ষিণ সিটির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোন করার অনুরোধ জানিয়ে শেখ তাপস বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে ঢাকাবাসীকে অনুরোধ করব, আপনারা নিজ উদ্যোগে নিজ বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। প্রতিদিন জমা পানি ফেলে দিন। কোথাও পানি জমতে দিবেন না। তার সাথে সাথে আশেপাশের কোন স্থাপনা, জায়গায় যদি পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে আমাদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৭০৯৯০০৪৪৪ ও ০২২৩৩ ৮৬০১৪ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য দিন। আমাদের মশক কর্মীরা ১৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে উপস্থিত হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাহলে আরো ফলপ্রসূ ও কার্যকরভাবে আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
















