চরফ্যাশনে হত্যায় অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কার, আটক -৯

দুলারহাট (ভোলা) প্রতিনিধি

চরফ্যাশন উপজেলার আবুবকরপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে কয়েক দফা পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় শনিবার ৯ আসামিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে দুলারহাট থানা সূত্রে জানা গেছে। গত শুক্রবার (৪এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় ওই ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আল আমিন ও তার দলবল।

জানা গেছে এর আগে গত বুধবার রাতে নিহত মাকসুদুর রহমানের (৩৮) বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার। নিহত মাকসুদ আবুবকরপুর ইউনিয়নের মাতাব্বর বাড়ির আবদুল খালেকের ছেলে। তিনি ঢাকার সাভার এলাকায় ভ্যানগাড়িতে ভ্রাম্যমাণ সবজি ও ফল বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় ২০ জন কে আসামি করে নিহতের ভাই মো: রায়হান মামলা দায়ের করলে পুলিশ এক নারীসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করলেও প্রধান অভিযুক্ত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আল আমিনকে ধরতে পারেনি। শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কবির শিকদার বলেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। একই সাথে হামলায় জড়িত আল আমিনসহ জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের সর্বচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবী জানান।

নিহতদের ভাই মো: রায়হান বলেন, তিনি এবং তাঁর ভাইয়েরা ঢাকার সাভার এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পবিত্র ঈদুল ফিতরে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তারা। বুধবার রাতে তাঁর স্ত্রী আকলিমা ও তাঁর বোন সীমার মধ্যে বাড়ির সামনে বখাটেদের আড্ডা দেওয়া নিয়ে ঝগড়া হয়। এ সময় প্রতিবেশী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলামিনসহ কয়েকজন বখাটে বাড়িতে গিয়ে ঝগড়ার কারণ জানতে চান।
রায়হান আরও বলেন, এ সময় তাঁর ছোট ভাই রাসেল তাঁদের ঘরে ঢুকতে না দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে ওই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার সঙ্গে তাঁদের বাকবিতণ্ডা হয়। এর এক পর্যায়ে দলবল ডেকে রাতেই তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন আল আমিন ও তার দলবল। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা ছুটে এসে তাৎক্ষণিক ঘটনার মীমাংসা করে দিলেও আল আমিন হুমকি-ধমকি দেওয়া অব্যাহত রাখেন।

রায়হান আরও বলেন, পারিবারিক কাজের জন্য তিনি এবং তাঁর আরেক ভাই মহসিন গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় দুলারহাট বাজারে যাওয়ার পথিমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আল আমিন ও তাঁর বাহিনী মোটরসাইকেলে এসে তাঁদের পথরোধ করে দুই ভাইকে বেধড়ক মারধর করেন। এরপর তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। বাঁধা দিলে পরিবারের ছয় সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাঁদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরাসহ স্থানীয়রা এ হত্যার বিচার দাবী করেন। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শোভন কুমার বসাক বলেন, মাসুদুর রহমানকে মৃত অবস্থায় ১২টা ২৫ মিনিটে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর শরীরে একাধিক জখম ছিল। হত্যায় অভিযুক্তরা নির্দোষ বলে দাবি করেন অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা।

দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ ইফতেখার জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ৯আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে সেখান থেকে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই মূল আসামিকেও গ্রেফতার করা হবে।

Facebook Comments Box